20_10

ঢাকি - মাম্পি সরকার

এমনি সময় বুধুয়া ক্ষেতে কাজ করে কিংবা মাছের ভেরীতে কাজ করে। কিন্তু ওর ঢাক বাজানোটা নেশা। আর বাজানোর হাতখানাও খাসা। সেই ছোটবেলায় যখন ক্লাস ফোরে পড়ত, তখন থেকে ওর এই নেশা চেপে বসে। পাড়ার একমাত্র পূজায় যে ঢাকি আসতো, তার নাম ছিল স্বপন বুড়ো। কি মিষ্টি হাত ছিল তার। তাকে মুগ্ধ হয়ে দেখতো বুধুয়া। বাজনার বোল গুলি কিভাবে কাঠি দিয়ে ঠিকরে বেরোচ্ছে তা দেখে অবাক হত সে । একদিন সাহস করে চেয়ে ফেললো কাঠিটা। বুড়ো হেসে দিলো ওকে। আনাড়ি হাতে ঠিক বোল বাজলোনা। বুড়ো তখন যত্ন করে শেখাতে লাগলো। চারদিন ধরে অসীম নিষ্ঠায় শিখলো বুধুয়া। পূজার শেষে বাসনে কাঠি দিয়ে বোল তুলতে লাগলো। রোজকার অভ্যাস ওকে ওস্তাদ করে তুললো। প্রতিবছর পূজায় ও স্বপন বুড়োর সাথে ঢাকে কাঠি দিত। একসময় পড়া ছেড়ে চায়ের দোকানে ঢুকলো ও। টাকা জমিয়ে একটা ঢাকও কিনে ফেললো। পূজার আগে কলকাতায় পাড়ি দিত। আনন্দের সাথে কিছু উপরি কামাই হত। ওর হাতের বাজনার তালে প্রতিবছর বায়না হয়ে কত অজানা জায়গার অচেনা মণ্ডপে যেত ও। কিন্তু গতবছর ওর বায়না হয়নি। ওর মতন বেশিরভাগ ঢাকিরই হয়নি। কারণ এখন নাকি ঢাকের বাদ্যি মাইকে বাজে। এ বছর করোনার প্রকোপ। পুজো হবে কি তার ঠিক নেই, তায় মণ্ডপে বায়না হওয়া। তবুও সে নিজের বিদ্যে ঝালিয়ে নেবার জন্য ঢাকে কাঠি দিয়ে রোজ বোল তুলতে থাকে। আসলে শরতের আগমন তার মন থেকে পূজার গন্ধ মুছতে পারেনা।

প্রচ্ছদ এবং সম্পাদকীয় কলমে

  দোল দিয়ে যায় কাশের বনে আশ্বিনের হিমেল হাওয়া শিশির ভেজা শিউলি বেলা বছর ঘুরে ফিরে পাওয়া। বোধন হতে নিরঞ্জন - ভেদ হীন এক ঐক্যতান, ঢাকের বো...