পূজো আমার
ছেলেবেলার - চুরি করে রাখা
স্মৃতির রংচটা তোরঙ্গ।
মরচে পড়া তালা
ক্যাচোর ক্যাচ্ শব্দ করে
খুলে পড়ে
ঢাকের কাঠির বোলে ।
শীত শীত করা -
ভোরের মিঠে হাওয়ায়,
সকালের রূপোলি
শিশিরের ছোঁয়ায়,
ডালা খোলে তার ।
একরাশ তাজা হাওয়া,
বেরিয়ে এসে-
আমায় ভাসিয়ে নিয়ে যায়,
বাঁশ আর টিনের মন্ডপে ।
বুকের উপর
দু'হাত আড়াআড়ি করে
গোল গোল স্বপ্নীল চোখে দেখি
পাল কাকু তাল তাল মাটি দিয়ে
গড়ছে দূগ্গামা ।
নাক সির সির করা
মাটির সোঁদা গন্ধে-
আজও মনের রন্ধ্র বেয়ে উঠে আসে -
এক মায়াবী আবেশ ,
ঠেলে দেয়
এক ভালো লাগার শৈশবে ।
ফিরে যেতে আবার ইচ্ছে করে
পূজোর সকালে-
যখন গায়ে তেল মাখিয়ে
স্নেহমাখা হাত দুটো
নাইয়ে দিতো জোর করে ;
নতুন কাপড় পরিয়ে ,
অঞ্জলি দেওয়াতো-
আরেক মায়ের পায়ে
ভাব ভরে।
কখনো টানা বারান্দায়
পাত পেড়ে খাওয়া -
অগ্রজার মেখে দেওয়া গ্রাসে।
ধূনুচির ধোঁয়ায় ঢাকের ছন্দে
রাতের পেট্রোম্যাক্সের আলোয়
ছলছলে মায়ের চোখ
নবমীর রাতে।
এখনো যত্নে লালিত হয়-
মনের গহনে ,
বিজয়ার প্রণামে হুড়াহুড়ি আর
ধুতি পরা পা দুখানি ,
এক নিশ্চিত ভরসার ঠিকানা,
জীবনের উত্তাল সমুদ্রে ।