ষোলোয়ানা বাঙালিয়ানার দাদাগিরি বা দিদিগিরি বলতে এককথায় দুর্গা পূজাকেই বুঝি আমরা। আর সেই পুজোর দিনগুলি যদি নির্ভেজাল বাংলায় মানে বাংলাদেশে কাটে, তবে বাঙালি হিসেবে নিজের কাঁধকেই নিজে চাপড়ে দিতেই হয়। গতবছর ২০১৯ সালে পুজোর কয়েকটা দিন বাংলাদেশে কাটানোর সুযোগ পেয়েছিলাম।
বাংলাদেশে দুর্গা পূজা কেমন হয় সেটা বলতেই আজ আপনাদের কাছে আসা।কিন্তু পেটে কিছু না দিয়ে কি গল্প শুরু করা যায়? নইলে আপনারাই বলবেন, ডেকে নিয়ে খালি মুখে গল্প শোনাচ্ছেন।
বাংলাদেশ মানে সবুজ প্রকৃতি, দেশীয় চাষাবাদ নির্ভর খাওয়া দাওয়া, আর মানুষে মানুষে আন্তরিক মেলবন্ধন, সে হিন্দু হোক বা মুসলিম। হয়তো কিছু পোশাকের পার্থক্য ছাড়া আপনারা বুঝতেও পারবেন না কে হিন্দু কে মুসলিম। জেলা ভিত্তিক সকল ধর্মের মানুষের মুখের ভাষা এবং বাহ্যিক আচরণ একই।
চলুন একটু বাইরে ঘুরে কিছু খাওয়া যাক। কাছাকাছি ঘোরার জন্য রিক্সাই ভালো। জরিদার রিক্সা মানে সোনালী জরি দিয়ে সুসজ্জিত রিক্সায় চেপে আপনি প্রায় সারা ঢাকা শহর ঘুরে নিতে পারেন। তবে চারজন ব্যক্তি একটা রিক্সায় অনায়াসে বসতে পারেন। অবাক লাগছে তো?
হ্যাঁ দুজন সিটে বসবেন আর দুজন ওনাদের ঘাড়ে, মানে পিঠের দুপাশে পা ছড়িয়ে দিয়ে এক অদ্ভুত পদ্ধতিতে। গন্তব্যে ঠিক সময়ে পৌঁছনোর দায়িত্ব কোনো পরিবহন দপ্তরের নেই। এখানে রাস্তার সিগন্যালগুলো বিরহী রূপাইয়ের মতো একা একাই জ্বলে আর নেভে! কেবলমাত্র ট্রাফিক সার্জেন্টের দুহাত পাখির ডানার মতো নড়াচড়া দেখে গাড়ির চাকা গড়ায়। এই শহরে বেশ কিছুদিন থাকলে আপনার ধৈর্য্য শক্তি বাড়বেই আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি, রাস্তায় জ্যামে অপেক্ষা করতে করতে!
যে কোনো পার্কের পাশেই পেয়ে যাবেন * ফুসকা * মানে ফুচকা যাকে আমি সম্পূর্ণ পৃথিবী বলি। কারণ ওর তিন ভাগ জল আর এক ভাগ স্থল। অল্প এট্টু আলু আর মগ ভর্তি জল তা পৃথিবীর সমানই তো হলো বলুন।
৫০ টাকা দিয়ে ১০টা *ফুসকা * খেয়ে, পাঁপড়িচাট খেতে খেতে ক্রমশঃ জিভ বার করতে হবে, ঠান্ডা হাওয়া লাগানোর জন্য। বাংলাদেশের মানুষেরা মনে হয় বেশ ঝাল খেতে পছন্দ করেন। যেটা আমার পক্ষে খুবই চাপের ব্যাপার। জিভ দিয়ে কয়েক ফোঁটা জল বার করে ফেলে চলুন একটু এগিয়ে যাই একটা মিউজিয়ামের দিকে। যার জীবন চিত্র না দেখলে বাংলাদেশের অনুভূতি অনুভব করতে পারবেন না।
বাংলার মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে প্রাতঃস্মরণীয় নাম বঙ্গবন্ধু মুজিবর রহমান। বঙ্গবন্ধুর নিজ বাসভবনের লাগোয়া জমিতেই তৈরি হয়েছে স্মৃতি জাদুঘর। ১৯৭১ -এর বাংলাদের মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন তথ্য, চিত্রের মাধ্যমে পরিস্ফুটিত করা হয়েছে। পশ্চিম পাকিস্তানি বাহিনীর অত্যাচারের নমুনা সহ বাংলার বুকে হিন্দু মুসলিমের দুর্দশায় সকল চিত্রই বর্তমান। সেই সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী মাননীয়া ইন্দিরা গান্ধী যেভাবে বাংলাকে সর্বত ভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন তার চিত্রও অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে সংরক্ষণ করা হয়েছে এই মিউজিয়ামে। মিউজিয়ামটি ঢাকা শহরের ৩২নম্বর ধানমন্ডিতে অবস্থিত।
ঢাকা শহরের বুকে এক বিশাল ঝিল রয়েছে। নাম হাতিঝিল। পূর্বে ওই অঞ্চলটিতে শহরের সকল নোংরা ফেলা হতো। বর্তমান সরকারের উদ্যোগে এর সংস্কার করা হয়। বর্তমানে প্রায় ৫০একর জমির উপর এই ঝিলটি নির্মিত। বোটিং সহ নানান রকমের প্রমোদের ব্যবস্থা রয়েছে এইখানে। সন্ধ্যের পর রঙিন আলোয় এই ঝিলটির শোভা আরও বর্ধিত হয়। চারিদিকে সবুজের ছায়া ঘেরা ঝিলের মোহময় রূপ দেখতে গেলে অবশ্যই হাতিঝিলের পাশে গিয়ে বসতে হবে সন্ধ্যের আলোয়।
আসেপাশে দুতিনটে দুর্গা পূজার প্যান্ডেল চোখে পড়লো। খুব বেশি জমকালো আতিশয্য নেই সেখানে। প্রতিমা দর্শনের উপচানো ভিড়ও নেই। তবে শুনলাম যেখানে যেখানে পুজো হচ্ছে সেই কলোনীর লোকেরা পুজোর দিনগুলোতে একসাথেই প্যান্ডেলে খাওয়াদাওয়া করেন হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে।
এটা জেনে মনটা আনন্দে ভরে গেল। পুজোর আতিশয্য না থাকুক আন্তরিক মেলবন্ধনের উপকরণ ঢালাও।
"কালীঘাটে আছেন কালী, ঢাকেশ্বরী ঢাকায়"
বাংলাদেশের বুকে যিনি পা রেখেছেন আর ঢাকেশ্বরী মায়ের দর্শন করেননি এমন কাউকেই খুঁজে পাওয়া যাবে না। আর দুর্গাপূজার সময় ঢাকেশ্বরী মায়ের দর্শন এক অনন্য অনুভূতি সৃষ্টি করে।
সুপ্রাচীন কাল থেকেই স্বমহিমায় মহিমান্বিত ঢাকার ঢাকেশ্বরী মাতা। ধাতু নির্মিত দেবী দুর্গা বিরাজমান এইখানে। হাজার হাজার দর্শনার্থীদের ভিড় লেগেই রয়েছে মন্দিরে। যেকোনো রকম অসুবিধার মোকাবিলায় অসংখ্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এইখানে। আসল মন্দিরের বাইরে বাঁশের প্যান্ডেলে দশভূজা দুর্গামাতা অসুরদলিনীরূপে বিরাজমানা হয়ে পূজিত হচ্ছেন। দুর্গা পূজার সময় এইখানে একটা মেলার আয়োজনও করা হয়। ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও দর্শনার্থীরা প্রতিদিনই ভিড় জমান এই মন্দিরে।
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা মসজিদ শহর নামে পরিচিত। দুর্গা পূজা দেখতে এসেছি বলে মসজিদ দর্শন করবো না তাই কখনো হয়? ঢাকার রাস্তার অলিতে গলিতে যে দিকে তাকাবেন মসজিদের অবস্থান চোখে পড়বেই। অসাধারণ সব শিল্পের নমুনা মসজিদগুলোকে এই আলাদা সৌন্দর্য প্রদান করেছে। রঙিন কাঁচ, পাথরে সুসজ্জিত সমস্ত মসজিদগুলো।
হাসান হোসেনের সমাধির রেপ্লিকা দেখতে গেছিলাম। মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে এর স্থান মাহাত্ম্য যথেষ্ট। ধর্মযুদ্ধে হাসান হোসেনের প্রাণ বলিদানের সম্মানার্থে যেদিন মুসলিম ধর্মপ্রাণ মানুষ নিজেদের শরীরের রক্ত উৎসর্গ করেন সেদিন এই অঞ্চলের পথঘাট রক্তের ধারায় সিক্ত হয়। আর এই সমাধি ক্ষেত্রের পিছন দিকেই রয়েছে একটা চারদিকে ঘাট বাঁধানো পুকুর। অস্ত্রের আঘাতে মুসলিম ধর্মপ্রাণ মানুষেরা নিজেকে ছিন্ন ভিন্ন রক্তাক্ত করে এখানে স্নান করেন। স্থানীয় মৌলবী সাহেবের কথা অনুযায়ী এই পুকুরের জলে শরীরের ক্ষত স্থানের নিরাময় হয়। এইখানে অনেক মানুষই মঙ্গল কামনায় সুতো বেঁধে মানত করে থাকেন। এমনকি হিন্দুরাও। এই সমাধির রেপ্লিকার সৌন্দর্য্য সাধারণ মানুষকে মুগ্ধ করবেই।
অনেকটাই সময় কেটে গেছে এই দুটো স্থান পরিদর্শনে। সন্ধ্যে হয়ে আসছিল আর অন্যদিকে ঢাকার রাস্তার জ্যাম, তাই খুব তাড়াতাড়ি সারতে হলো পরবর্তী দর্শনীয় স্থানগুলো। বিখ্যাত মধুর ক্যান্টিন সহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে তৈরি শহীদ মিনার। এই শহীদ মিনারের পাশেও ফুচকার দোকান চোখে পড়লো, কিন্তু ঝালের কথা মনে পড়ায় সে ইচ্ছে অতি কষ্টে নিবারণ করলাম। তবে শহীদ মিনারের পাশে, রাস্তার পাশের চা একবার অবশ্যই
খেয়ে দেখবেন, কথা দিলাম ঠকবেন না। ১০ টাকায় এক গ্লাস দুধ চা স্বাদেও যেমন মনও ভরাবে, তৎক্ষণাৎ রাস্তার জ্যামের ক্লান্তিও দূর করবে।
এই নির্মল বাংলাদেশে পুজো দেখার সুযোগ হয়েছিল
হাই সিকিউরিটি পরিষেবার মধ্যে। বাগমারির এম. পি. ইঞ্জিনিয়ার ইমানুল হক দাদার আতিথেয়তায় ছুটে গেছিলাম সেখানে। রাজশাহী বিমান বন্দর থেকে প্রতিটি মুহুর্তেই ছিল হাই সিকিউরিটি পরিষেবা।
বাংলাদেশে ভারতীয় দূতাবাসের এসিস্ট্যান্ট হাই কমিশনার মিঃ সন্দীপ ভাট্টির পরিবারের সাথে দুর্গা মায়ের সামনে অঞ্জলি দেওয়া থেকে শুরু করে ভোগ খাওয়া অসাধারণ এক অমলিন স্মৃতি। গ্রামের সমস্ত মানুষ হিন্দু মুসলিম সকলে একসাথে বসে লুচি, লাবরার তরকারি, ফল, নাড়ু, পায়েস সহযোগে এক অসাধারণ ভোজ। সত্যি কথা বলতে বাঙালির দুর্গোৎসব সব ধর্মকেই এক ছাতার নীচে নিয়ে আসতে পারে তার প্রমাণ আরও একবার পেলাম।
রাজশাহী জেলার যে পুজোটার কথা এখন বলবো তার ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম।
সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজা।
আশ্বিনে শ্রী রামচন্দ্রের অকালবোধন এই দুর্গাপূজা।
এইবার বাংলাদেশের মাটিতে এমন এক পূজায় উপস্থিত থাকতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবতী মনে করছি।
এখানে দেখলাম পিতলের মায়ের মূর্তি। এটি ত্রিশ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ১০০ কেজি পিতল দিয়ে তৈরি। যদিও এর মাহাত্ম্য অন্য জায়গায়।
১৪৮০ সালে ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম দুর্গা পূজার প্রচলন করেন রাজশাহী জেলার তাহেরপুরের রাজা নারায়ণ কংসবনিক।
পরবর্তী সময়ে ইংরেজ শাসন, সাম্প্রদায়িক অশান্তির কারণে এই পুজো বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমান প্রশাসনের উদ্যোগে এই পুজো পুনরায় শুরু হয়েছে। এবছর ৩০লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই নতুন বিগ্রহ তৈরি করিয়ে দিলেন বাগমারার এম. পি. ইঞ্জিনিয়ার ইমানুল হক মহাশয়। আগে যদিও মাটির মূর্তিতেই পুজো হতো। পুজোর প্রথম থেকে যে নিয়ম বা যে ভোগ চালু ছিল আজও একই নিয়ম ও ভোগ ব্যবস্থা চালু।
এরপর ফিরে এলাম আবার ঢাকায়। ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দির আগেই দর্শন করেছি, আরও একবার দর্শন করলাম ঢাকেশ্বরী মাতাকে। দেশ বিদেশ থেকে বহু দর্শনার্থীদের ভিড় উপচে পড়েছিল এই মন্দিরে।
এছাড়া আরও কয়েকটি আঞ্চলিক প্রতিমা দর্শন করেছি। আগেই বলেছি এখানের পুজোতে বিশেষ কোনো আকর্ষণ নেই আমাদের কলকাতা শহরের মতো। কিন্তু ষোলোআনা আন্তরিকতা রয়েছে এই উৎসবে।
আর কোনো প্রতিমা দর্শন হয়নি এদেশের। তবে পুজোর পরিবেশ ধর্ম নির্বিশেষে অসাধারণ। পুজোর ছুটি বলতে এদেশে অষ্টমী, নবমী, দশমী। তবুও আলোয়, উৎসবে ঝলমল বাংলাদেশ।
রাজশাহীর তাহেরপুরে ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম দুর্গা পুজো রাজা নারায়ণ কংসবনিকের প্রতিষ্ঠিত যেখানে উপস্থিত থাকতে পারাটা আমার জীবনের সেরা প্রাপ্তি।
বছর বছর ঘুরে আসুক এই উৎসবের ক্ষণ।
ধনী দরিদ্র, হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে যেন এভাবেই ভেসে যায় খুশির জোয়ারে।
বয়ে যাক গঙ্গা পদ্মার জল একই উপসাগরে।
শুধু একটাই কথা-
ধর্ম থাক নিজেকার
উৎসব হোক সবাকার।
বাংলাদেশে পুজোর গল্প তো শোনালাম। কিন্তু বাংলার জন্য একটা কবিতা উপহার রেখে না গেলে এখানকার মানুষ গুলো কি আমায় সহজে ছেড়ে দেবেন? তাই এই ছোট্ট উপহার রইলো সেই সকল মানুষগুলোর জন্য, বাংলার মাটি, আকাশ আর পদ্মার জন্য।
তোমার আকাশ আমায় ডাকে
আমার জল তোমার গান শোনে
তোমার সবুজ আমায় অবুঝ করে
আমার চোখ তোমার চোখে গল্প বোনে...
পদ্মার বুকে গঙ্গার ভালোবাসা
পাওয়া না পাওয়ার ডুব জলে বিরহ
আকাশের সীমানায় লেখা কাহিনী
নীরবে পাঠ করছি অহরহ...
কাশের মাঠে আমার নিঃশ্বাস
দোলা দেয় তোমার দিগন্তের প্রান্তে
তোমার শহরের ইতিকথা শুনি
রাতের জোনাকির সাথে একান্তে...
তুমি আমি আজ একাকার
ক্ষনিকের অতিথির বেশে
রয়ে যাবো অসমাপ্ত উপন্যাস হয়ে
মনে রেখো একফোঁটা ভালোবেসে।।
©দলছুট পাখি
ভালোলাগা ভালোবাসা যেখানে মিশে একাকার-
ফিরবো হয়তো কোনো একদিন সেখানে আবার।
"""""""""""""""""""""""""""""""""""""
সব অপরিচিত মুখগুলো যখন কিছু কথায়, কিছু ব্যবহারে, কিছু আচরণে মনের উপর লিখে দেয় কিছু না ভুলতে পারা কাহিনী তখন হাজার চেষ্টাতেও তাদের মুছে ফেলা সম্ভব হয় না। যদিও সে চেষ্টা করা আমার কাছে ধৃষ্টতা। যদি কোনোদিন স্মৃতি বেইমানি না করে তবে রয়ে যাবে চিরকাল সেই গল্পের চরিত্রগুলো।
বাগমারার এম. পি. এনামুল হক দাদার বন্ধুত্বের ডাকেই সারা দিয়ে আমার বাংলাদেশ ভ্রমণ। ওনার এবং ওনার পরিবারের প্রত্যেক সদস্যদের আন্তরিকতায় আমি মুগ্ধ। তবে ওনার মেয়ে তান্নির রান্নার প্রশংসা না করে কোনো নিন্দুক থাকতে পারবে না। ওনার অফিসের প্রতিজন স্টাফ এবং ড্রাইভার ভাইদের ব্যবহার অমায়িক।
আলতাফ ভাই আর তাঁর পরিবারের কথা আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না। তাঁর দুই ছেলে রঙ্গন ও আরিফ সুপ্রতিষ্ঠিত নিজেদের কর্ম জগতে। তাদের কাছে আমার মতো একজন অপরিচিত (আন্টি) মানুষ যেন প্রথম দেখাতেই এক অত্যন্ত কাছের মানুষ।
আলতাফ ভাইয়ের ছোট বৌমা কখন যে আমাদের এত কাছের মানুষ হয়ে উঠেছে বুঝতেই পারিনি। ওর চোখের জল বুঝিয়ে দিয়েছে ওর মনের পরিচয়।
বাগমারা, তাহেরপুর, রাজশাহীর মানুষজনের সান্নিধ্য আমার এক পরম প্রাপ্তি।
" মাসি আবার আইস্য"
" বৌদি আপনেরে আমগো খুব ভালো লাগসে"
"আপনেগো খুব মিস করুম"
" যোগাযোগ রাইখ্যেন"
-এই কথাগুলো ভুলব না কোনোদিন।
মমতাজ বেবি দি কত সহজে যখন বলেন নিজের পরিবারের কথা, সত্যি মনে হয় আমি বুঝি ওনার পরিবারেরই একজন সদস্য।
কেউ একজন অনেক ভিড়ের মধ্যে মাসকলাই-এর রুটি আর কাঁচা লঙ্কার চাটনি এনে দিয়েছিল হাতে। একটুকরো মুখে দিয়েই চোখের জলে নাকের জলে একাকার হয়েছি ঝালে। কিন্তু ওখানের এই বিখ্যাত খাবার আমার হাতে দিয়ে উনি অনেক খুশি হয়েছিলেন, তাই আমার পক্ষে কোনদিনই ভোলা সম্ভব নয় সেই মুহূর্তটা।
সজনে ডাঁটা, কুমড়ো দিয়ে কৈ মাছ; টম্যাটো দিয়ে ছোট ট্যাংড়ার পাতলা ঝোলের অপূর্ব স্বাদ আপনাদের বোঝানোর সাধ্য নেই আমার।
আমার ছেলে আর ব্যাগের দায়িত্ব সারাক্ষন যে নিয়েছিল সে হলো উজ্জ্বল। ওর আন্তরিকতায় মনে হচ্ছিল ও আমার নিজেরই ভাই।
"বৌদি আমার একদম উঠতে ইচ্ছে করছে না আপনার গল্প রেখে। মনে হচ্ছে সারাক্ষন বসে আপনার গল্প শুনি।" এই বক্তব্যের মালিক হল শাকিল। এখনো পর্যন্ত প্রতিদিন আমার খোঁজ খবর নিয়ে চলেছে সে। ওর খাওয়ানো মিষ্টি পান এখনো মুখে লেগে আছে। পরের বার আবার সেই পানটাই চাই কিন্তু শাকিল।
রাজশাহী আর ঢাকায় শ্বশুর বাড়ির আত্মীয়দের খুঁজে পাওয়া আমার কাছে অনেক বড় একটা পাওনা। বোন, দাদাবাবু, ভাগ্না, ভাগ্নি তোমাদের খুব মিস করছি।
কালাম ভাই আপনার দোকানের শাড়ি নেওয়া হলো না এবার। পরের বার নিশ্চয়ই নেবো। তবে আপনার সাথে কাটানো বিকেলটা মনে থাকবে সারাজীবন।
সদা হাস্যময় সাগর দা আপনি বৌদির খুব ভালো করে যত্ন নিন। আপনার সেলফি ম্যানিয়া আমার খুব ভালো লেগেছে।
আরও অনেকের কথাই লেখার ছিল, কিন্তু তাদের নাম জানি না।
নাম না জানলেও মুখগুলো মনে থাকবে সারাজীবন।
সত্যি কথা বলতে আমি এতটা ভালোবাসা পাওয়ার যোগ্য কিনা জানিনা, তবে যেটা পেয়েছি তা আমার কাছে অনেক বড় সম্পদ। আপনাদের ভুলতে পারবো না কোনোদিন। খুব ভালো থাকুন সবসময় আপনারা।
হয়তো আবার কখনো দেখা হবে এপারে নয়তো ওপারে...💐💐