20_10

শরৎ সাঁঝের তারা - অজয় কুমার দত্ত

সেদিনও আকাশে শরৎ ভোরের সূর্যটা  উঠেছিল

সেদিনও বাগানে শিউলি গাছটা কুঁড়িতে ভরেছিল
আজকের মতো সেদিনও মা দুর্গা এসেছিল ভরা নায়ে
পিছু হাসে যত স্মৃতিকুসুমেরা সুবাসিত করে বায়ে!

লালটিপ ক্যাপ পিস্তল হাতে হাফপ্যান্ট পরা ছেলেটা
সপ্তমী থেকে দৌড়ে ঝাঁপিয়ে কাঁদে বিসর্জনের বেলাটা
তার পুঁচকে বোনটির গায়ে নতুন ফ্রকের সাথে
কপালে ছোট্ট কুমকুম টিপ ভ্যানিটি ব্যাগটি হাতে!!

প্লাস্টিকেরই মনোলোভা রঙা জিভছোলা মতো দেখতে
‘সরি ম্যাডাম’ ছিল তার নাম লাগাতো ছোট্ট মাথাতে
বড় বড় দুই পুঁতি পাওয়া যেত ইলাস্টিকে গাঁথা
খুকুদের প্রিয় ‘লাভ ইন টোকিও’ ঝুঁটিতে থাকতো বাঁধা!

মায়ের শাড়ি ছিল থাকে থাকে সিনেমার নাম মিলিয়ে
‘কাঁচ কাটা হীরে’ ‘বাক্স বদল’ আর ‘বাড়ি থেকে পালিয়ে’
শৌখিন মা সুন্দর মুখে প্রসাধনী ভালবাসতো
‘আফগান স্নো’ প্রমোশন পেয়ে ‘বসন্ত মালতী’  হাসতো!!

নতুন শাড়িতে শিশিটা উলটে লাগাতো কান্তা সেন্টু
আমার জামায় বোনের ফ্রকে আর বাবার গায়েও কিন্তু!
ছিল নাকো নাম বাবার ড্রেসের শুধু ফুলসার্ট ধুতি
প্রিয় ছিল তার ‘পন্ডস পাউডার’~ পাঞ্জাবী অচ্ছুতই!

পূজোর ক’দিনে ‘নাম্বার টেন’-এ আরামের সুখটান
নতুন ব্যাটারী ‘মারফি রেডিও’ আর পূজোর নতুন গান
অমৃতময় হেমন্ত গায়~‘তার আর পর নেই’
‘মধুর মধুর বংশী বাজে’ সন্ধ্যার গলাতেই!!

মান্না কখনো গাইতো বিষাদে~‘আবার হবে তো দেখা’
লতার ‘আকাশ প্রদীপ’ শুনে উদাসী হৃদয় একা
প্রতিমার গানে ঈশ্বরী তান~‘আঁধার আমার ভালো লাগে’
‘দুর নয় বেশি দুর ওই সাজানো সাজানো’~ শ্যামলের অনুরাগে!

সুখেদুখে ভরা দিনগুলো ছিল হাসি আনন্দে ঘেরা
আকাশের ডাকে মা হঠাৎ হলো শরতের সাঁঝতারা
আজও সায়াহ্নে ঘোর লাগা মনে শূন্যে তাকাই একা
স্থির আলো জ্বেলে সাঁঝতারা বলে~‘কাঁদছিস কেন বোকা’!!

খুশির সরোদে অতীত বাজায় লুকনো ব্যথার মালকোষ
কষ্ট যে পাই শুনতে না চাই তবু ঝরাবেই আঁখিরস!
এক মা হাসে প্রতিবার আসে আগমনী গান বাজিয়ে
আর একটি মা শারদ আকাশে সাঁঝতারা হয়ে তাকিয়ে!!

প্রচ্ছদ এবং সম্পাদকীয় কলমে

  দোল দিয়ে যায় কাশের বনে আশ্বিনের হিমেল হাওয়া শিশির ভেজা শিউলি বেলা বছর ঘুরে ফিরে পাওয়া। বোধন হতে নিরঞ্জন - ভেদ হীন এক ঐক্যতান, ঢাকের বো...