তোমার দুর্গা আমার দুর্গা অনেক তফাত জানি
প্রতি পুজোয় ফিরে ফিরে আসে সে হয়রানি।
তোমায় বলি, আমায় বলি এবং আপনাকেও,
কবিতা যে ছোঁয় না মোটে বলছি আমি তাকেও
আগের বছর এই বছরের পুজো দুটোর মাঝে
একটি বছর কেটে গেছে রঙবেরঙের কাজে
এর মধ্যে কয়টা মিনিট অন্য দুর্গা দাগ কেটেছে?
ওদের তো সেই ভেজা শ্রাবণ, শীতে কেঁপে মাঘ কেটেছে
তোমার ঘরে কাজ করে যে সে দুর্গাটার খোঁজ করো?
ক্যানিং লোকাল লেট করলে লক্ষ কথায় দোষ ধরো।
যেই কার্তিক মোড়ের মাথায় নোংরা হাতে কাঁচ মোছে
কেউ জানেকি বোশেখ রোদে কেমন করে বাঁচছে সে?
গনশাকে তো প্রায়ই দেখো ভিক্ষা করে ফুটপাতে,
নতুন কোনো জামা কিনে কেউ দিয়েছো তার হাতে?
সরস্বতী ভাত সামলিয়ে বোনকে কোলে ঘুরে বেড়ায়
উকুনমাথা অলক্ষ্মীটা তোমার পাড়ায় কাগজ কুড়ায়,
সারাবছর এদের জীবন একটু হলেও পাল্টেছো কি?
ওসব করার থেকে সহজ শব্দে শব্দে ঠোকাঠুকি।
শুধুই কি আর রাষ্ট্রের দোষ? যতই কেন যুক্তি শানাই,
মুখের কথায় পিঠ বাঁচিয়ে, অন্য দুর্গা আমরা বানাই।