20_10

বিদ্যারূপেণ - কলমে_কুহেলী_মুখার্জী

 #বিষয়_শারদোৎসব_ও_গ্রামবাংলা

#বিভাগ_গল্প

#


সময়টা তখন পরবর্তী বৈদিক যুগের, মেয়েদের অবস্থান সমাজে কিছুটা হলেও ক্ষুণ্ন হয়েছিল---এই গল্পটা সেই সময়কার।।


হয়তো কিছুটা সত্যি আর কিছুটা কল্পনার আশ্রয় মেশানো এই গাঁথায় লুকিয়ে রয়েছে এক নির্মম সত্য ; যা প্রমান দেয় যুগে যুগে মেয়েদের প্রতি হওয়া নির্মম অত্যাচারের। দিন পাল্টায়,সময় পাল্টায়, আকাশে তবুও চাঁদ-সূর্য ওঠে, মানুষের মানসিকতা কিন্তু বদলায় না, সময়ের প্রভাবে তার মুখে ওঠে নতুন মুখোশের প্রলেপ কিন্তু অন্তরের কুৎসিত মনোভাব রয়েই যায়।।


প্রাচীন ভারতে বিভিন্ন নদীতীরে এক এক করে গড়ে উঠেছিল  সুপ্রাচীন জনপদ,আমার গল্পের  শুরু এখান থেকেই।গড়ে উঠেছিল সময়োচিত সভ্যতা, বর্ণ-কার্যভেদে চতুরাশ্রম প্রথা প্রচলিত ছিল। সে যুগ ছিল প্রাক-বৈদিক যুগ, সমাজে মেয়েরা পর্দানসিন ছিলোনা, সংসারের প্রধানা ছিলেন গৃহকর্ত্রী, পুরুষ-নারী ভেদভেদে নয়, সমাজের চাকা চলতো নারী-পুরুষের সমানাধিকারে।

সংসার কিংবা সমরে, বিদ্যা কিংবা রাজসিংহাসনে নারীরা পুরুষের সমকক্ষ ছিলেন, বাধ সাধলো পুরুষতন্ত্র, মেনে নিতে পারলো না নারীর সমানাধিকার।মেয়েরা তখন রীতিমতন পুরুষদের সমকক্ষ হয়ে বেদ রচনা করছে, যজ্ঞে অংশগ্রহণ করছে এমনকি বেদশিক্ষা দান করছে ছাত্রদের।।বেদ পরমব্রহ্ম,স্বয়ং আদিপিতা--জগৎ সৃষ্টিকারীর মুখনিঃসৃত বাণী--এই বেদে কখনোই নারীদের আধিপত্য স্থাপন করতে দেওয়া চলবেনা।পুরুষসমাজ বিরোধিতা শুরু করলো, মেয়েদের বিদ্যাশিক্ষা,অস্ত্রশিক্ষা--বিভিন্ন সামাজিক বিধিনিষেধের বেড়াজালে আবদ্ধ হলো, মেয়েদের স্বাধীনতা খর্ব হলো।।

যুগে যুগে যখনই কোনো ধর্মসংকট পৃথিবীকে ছেয়ে ফেলেছে, তখন তাকে মুক্ত করতে জন্ম নিয়েছেন হাজার হাজার দুর্গা--বিভিন্ন নামে,বিভিন্ন রূপে।

সরস্বতী নদীতীরে সমৃদ্ধ জনপদে ছিল ঋষি অমবৃন্যাখ্য এর আশ্রম, বেদজ্ঞানে ঋদ্ধ সেই ঋষির আপন বলতে ছিল মাতৃহারা একমাত্র কন্যা অমব্রিনী। বেদজ্ঞানে সিদ্ধাহস্তা সেই ঋষিকন্যার সার্বিক পরিচয় ছিল বাক নামে। 

সমাজ যখন ধীরে ধীরে মেয়েদের লেখাপড়ার পাশাপাশি সামাজিক স্বাধীনতাটুকুও হরণ করেছে, এমনকি বেদের ওপর থেকে মেয়েদের অধিকার কেড়ে নিতে উদ্যত হয়েছে--সে সময় বাক সরব হয়েছেন নারী স্বাধীনতা নিয়ে, বিভিন্ন যুগদ্রষ্টা ঋষিদের সাথে তর্কের আসরে অংশ নিয়েছেন নারীদের পড়াশোনার স্বার্থে।

পরবর্তী বৈদিক যুগ , এক অস্থির সময়ের ইতিকথা বলে। বাক নিজের পিতার আশ্রমে নারীদের জন্য পুনরায় বেদশিক্ষার আসর চালু করেন, যে আসর একদিন সামাজিক পুরুষতন্ত্রের নিয়মে বন্ধ করা হয়েছিল। অনেক সামাজিক চোখরাঙানি, বিধিনিষেধের পরেও থামানো যায়নি  ঋষিকন্যা বাককে।  

কোনো এক অকাল মুহূর্তে আশ্রমে সেদিন কেউ উপস্থিত ছিলেন না, সামাজিক নিয়মের ধ্বজাধারী ব্যক্তিত্বরা পুড়িয়ে দেন আশ্রমটি, সেই সাথে জীবন্ত পুড়ে যায় ঋষিকন্যা বাক আর তার সারাজীবনের পরিশ্রমের ফসল তার লিখিত বেদসুক্তগুলি। সমাজে রটিয়ে দেওয়া হয়, সৃষ্টিকর্তার রোষে পুড়ে গেছে আশ্রমটি, কিন্তু ইতিহাস অন্য কথা বলে। আশ্রমটি আগুনের লেলিহান গ্রাসে পুড়ে যাওয়ার পর এক বিধ্বংসী বন্যায় ভেসে যায় আশ্রম ও তৎসংলগ্ন অঞ্চল। বলা হয় সরস্বতী নদীর অন্যরূপ ছিলেন ঋষিকন্যা বাক, প্রকৃতির অন্যতম রূপ তিনি।বলা হয় ,এই বন্যার পর দিক পরিবর্তন হয় সরস্বতী নদীর। এর ফলে , ধীরে ধীরে নাব্যতা-নিজস্ব গতিময়তা হারায় সরস্বতী নদী, একসময় লুপ্ত হয় সে।

বাক রয়ে যান অন্তরালে, সরস্বতী নামের আড়ালে হারিয়ে যায় সত্যতা।।

প্রচ্ছদ এবং সম্পাদকীয় কলমে

  দোল দিয়ে যায় কাশের বনে আশ্বিনের হিমেল হাওয়া শিশির ভেজা শিউলি বেলা বছর ঘুরে ফিরে পাওয়া। বোধন হতে নিরঞ্জন - ভেদ হীন এক ঐক্যতান, ঢাকের বো...